হাদিসের মূল পাঠ:
“মানুষ তার বন্ধুর দ্বীন বা আদর্শের অনুসারী হয়। সুতরাং লক্ষ্য রাখা উচিত সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে।”
— আবু দাউদ: ৪৮৩৩, তিরমিজি: ২৩৭৮মানুষের চরিত্রে পরিবেশ এবং সহচরদের প্রভাব অনস্বীকার্য। একজন মানুষের চিন্তা-চেতনা, রুচি এবং আমল অনেকাংশেই তার বন্ধুদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। এই হাদিসের মাধ্যমে বিশ্বনবী (সা.) আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে সতর্ক করেছেন—তা হলো বন্ধু নির্বাচন।
আমরা যখন কোনো ব্যক্তির সাথে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করি, তখন অলক্ষ্যেই তার ভালো বা মন্দ গুণগুলো আমাদের মাঝে সংক্রমিত হয়। যদি বন্ধু সৎ ও বিনয়ী হয়, তবে তার প্রভাবে আমাদের মাঝেও সৎ গুণাবলি বিকশিত হয়। অন্যদিকে, বন্ধু যদি পাপাচারী বা অলস হয়, তবে ধীরে ধীরে আমাদের ঈমানি শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) সৎ ও অসৎ বন্ধুর তুলনা করেছেন আতর বিক্রেতা এবং কামারের হাপরের সাথে। আতর বিক্রেতার পাশে থাকলে সুঘ্রাণ পাওয়া যায়, আর কামারের পাশে দুর্গন্ধ গায়ে লাগে। অর্থাৎ, অসৎ বন্ধু আপনার দুনিয়া ও পরকাল উভয়ই ধ্বংস করতে পারে। তাই বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে কেবল বিনোদনকে গুরুত্ব না দিয়ে দেখতে হবে সেই বন্ধু আপনাকে আল্লাহর পথে ডাকছে কিনা।
শিক্ষা:
বন্ধুত্ব জান্নাত বা জাহান্নামে যাওয়ার একটি মাধ্যম। মুমিনকে বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেগের চেয়ে বিবেক ও ঈমানকে প্রাধান্য দিতে হবে।