“আল্লাহর কাছে দুনিয়ার মূল্য যদি একটি মশার ডানার সমানও হতো, তবে তিনি কাফেরকে এক ফোঁটা পানিও দিতেন না।”
— তিরমিজি, হাদিস: ২৩২০মানুষের জীবনের যাবতীয় দুঃখ, কষ্ট এবং অসম প্রতিযোগিতার মূল কারণ হলো দুনিয়াকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া। তিরমিজি শরীফের এই অসাধারণ হাদিসটি আমাদের চোখ খুলে দেয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) এক চমৎকার রূপকের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন যে, আল্লাহর কাছে এই বিশাল পৃথিবীর মূল্য একটি নগণ্য মশার ডানার চেয়েও কম। এটি কেবল একটি ক্ষণস্থায়ী সরাইখানা ছাড়া আর কিছুই নয়।
২০২৬ সালের এই আধুনিক যুগে যখন মানুষ সম্পদ আর ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে পড়ছে, তখন এই হাদিসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে—যাকে আমরা পরম পাওয়া মনে করছি, তা আসলে স্রষ্টার কাছে মূল্যহীন। আল্লাহ যদি দুনিয়াকে সামান্যতম গুরুত্ব দিতেন, তবে যারা তাকে অস্বীকার করে (কাফের), তাদের তিনি এই দুনিয়ার কোনো নিয়ামতই ভোগ করতে দিতেন না। কিন্তু দুনিয়া মূল্যহীন বলেই এখানে ভালো-মন্দ সবাই পার্থিব সুবিধা লাভ করে।
এই হাদিসের অর্থ এই নয় যে আমরা দুনিয়া ত্যাগ করব, বরং এর অর্থ হলো দুনিয়া যেন আমাদের অন্তরে স্থান না পায়। মুমিনের কাছে দুনিয়া হবে একটি কৃষিক্ষেত্র, যেখানে সে আখেরাতের জন্য ফসল বুুনবে। পার্থিব সাফল্যে অতি আনন্দিত না হওয়া এবং ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়াই হলো এই হাদিসের প্রকৃত শিক্ষা। আমাদের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই পরকাল, যা চিরস্থায়ী এবং আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।
হাদিস থেকে ৩টি বিশেষ উপলব্ধী:
- দুনিয়া কেবল পরীক্ষার ক্ষেত্র, ভোগের প্রধান স্থান নয়।
- পার্থিব সম্পদের প্রাচুর্য আল্লাহর প্রিয় হওয়ার প্রমাণ নয়।
- অস্থায়ী জিনিসের চেয়ে স্থায়ী পরকালের জন্য বিনিয়োগই বুদ্ধিমানের কাজ।