“ধৈর্য হলো এক উজ্জ্বল আলো।”
— সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৩মানবজীবনের কঠিনতম সময়ে যখন চারপাশ অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যায়, তখন কেবল 'সবর' বা ধৈর্যই মুমিনকে সঠিক পথ দেখায়। সহিহ মুসলিম শরীফের এই ছোট্ট কিন্তু শক্তিশালী হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ধৈর্যকে 'জিয়া' বা উজ্জ্বল আলোর সাথে তুলনা করেছেন। সূর্য যেমন নিজে জ্বলে চারপাশকে আলোকিত করে, ধৈর্যও তেমনি মুমিনের অন্তরকে ভেতর থেকে আলোকিত করে তাকে বিপদে অবিচল রাখে।
২০২৬ সালের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং প্রতিযোগিতামূলক সময়ে আমাদের জীবনে ধৈর্যের প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে অনেক বেশি। ধৈর্য কেবল সহ্য করার নাম নয়, বরং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে বিপদের সময়েও সঠিক সিদ্ধান্তে অটল থাকার নাম। যে ব্যক্তির হৃদয়ে ধৈর্যের আলো থাকে, কোনো অন্ধকারই তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না। এটি এমন এক শক্তি যা মানুষকে হতাশা থেকে মুক্তি দেয় এবং পরকালে মহা পুরস্কারের নিশ্চয়তা দান করে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা অসংখ্যবার ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি ধৈর্যশীলদের সাথেই আছেন। ধৈর্য মুমিনের চরিত্রকে মজবুত করে এবং তাকে ইবাদতে একাগ্র হতে সাহায্য করে। জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় যারা ধৈর্যের আশ্রয় নেয়, তারাই শেষ পর্যন্ত সফল হয়। এই হাদিসটি আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে শান্ত ও সহনশীল হওয়ার প্রেরণা জোগায়।
সবর বা ধৈর্যের ৩টি বিশেষ শিক্ষা:
- বিপদে অভিযোগ না করে আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা।
- কঠিন সময়েও ইবাদত ও নৈতিকতায় অটল থাকা।
- ধৈর্য অন্তরে প্রশান্তি আনে এবং পাপ মোচনে সহায়তা করে।